১.২.৩.৪

তারপর বহু বার সূর্যের আশপাশ দিয়া ঘুইরা আইছে দুনিয়া,
আপনারে ছাড়া ফুটছে কত ফুল!
ফুলেরা কি জানে ?
আমি ফুলেদের কানে কানে সব বলতে গেছিলাম,
তারা বিষণ্ণ হোলনা!
মৃদু হেসে তারা বোললো,
“তুমি কি টের পাওনাই বহুদিন আমরা কোনো গন্ধ ছড়াই না?”
আমি খুঁজতে গেছিলাম লোকেদের।
কুত্তার বাচ্চারা যায় না যে ওদিগে, তা আমি জানি।
আমি খুঁজতে গেছিলাম, নিজেরে লোকেদের একজন ভেবে।
মিনারে। সোড়গোলেই প্রকৃত শ্রদ্ধা নিহিত ভাবি!
খুব কেউ ছিল না যথারীতি, আমার কণ্ঠে ছিল যথাযথ হতাশা।
মৃদু হেসে মিনার বোললো,
“দেখোনাই বুঝি শীতের শিশিরে, ফজরের আগেই ফিরা গেছে যারা তাদের পায়ের ছাপ?”

আপনে না থাকার পর অনেক বিরাট সব কাজ করছে মানুষ।
মূলত, তারা আগেই অনেক বুদ্ধিমান ছিল!

আপনে যে মাটিরে মা বইলা ডাকছেন, যে মায়ের পোলাগো জান বাচাইতে ফুল- নদী-পাখিদের লগে বহুদিন কথা কওয়ার ফুসরত পান নাই, জাগো মুক্তির লাইগা নয় মাস পরও জামার পকেটে রিভালবার নিয়া উদভ্রান্ত ঘুরছেন, তারাই আপনের রক্ত দিয়া আপনার মায়রে গোসল করাইয়া দিছে!

এখন তারা আরও চৌকস ও প্রকৃত বেশ্যা হইয়া উঠছে।
তারা মাঝির নদীর কইলজার মধ্য দিয়া রাস্তা বানাইছে, ভাতারগো লাইগা।
তারা শ্রমিকের সব খনিজ উজাড় কইরা দিছে, খদ্দেরগো লাইগা।
মজুতের ব্যবস্থাপনা করে নাই, তার কৃষকের বাম্পার ফলন নষ্ট কইরা ফালাইছে, আমদানি করার লাইগা।
দ্যাখেন, এর আসলে কোন শেষ নাই… আপনে আমাদের যে নাম দিছিলেন তাও কারা জানি লূট কইরা নিছে।

আপনে যা সবার আগে দেখছিলেন, আমরা মাত্র ইদানীং বুঝতাছি,
কারা গিলা ফালাইছে একটা আস্তা সংগ্রাম!

আপনের নামের কসম, মিছা কমু না
ক্যালেন্ডারের পাতায় জানুয়ারি ২ দেখলে
হারারাইত অথর্ব আমারও চোহে ঘুম আহে না।

কিছু কিছু বিপন্নতা আছে আলোতে প্রতিবিম্ব নাই।
শেষ রাতে স্বপ্নে একটা ফালতু ফুল চুপিচুপি বলছে আমারে,
“তুমি কি টের পাওনা বহুদিন আমি বিষণ্ণ, কোনো গন্ধ ছড়াই না?”


About this entry